মাসরাসা-এ-শিবলি'র মনীষীগণ
এই মহান পণ্ডিতগণ ইসলামি জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

জাভেদ আহমেদ গামিদি
1952-Present

মুহাম্মদ ইকবাল
1877-1938

ইমাম আমিন আহসান ইসলাহি
1904-1997

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
1888-1958

সাইয়্যিদ আবুল আলা মওদুদি
1903-1979

সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভি
1884-1953

শিবলি নুমানি
1857-1914

ওয়াহিদুদ্দিন খান
1925 - 2021

ইমাম হামিদুদ্দিন ফারাহি
1863-1930

জাভেদ আহমেদ গামিদি
1952-Presentউস্তাদ জাভেদ আহমেদ গামিদি (জন্ম ১৯৫১): সমকালীন বিশ্বের এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক কণ্ঠস্বর। আমিন আহসান ইসলাহির প্রধান শিষ্য হিসেবে তিনি ইমাম ফারাহির ‘নাজম’ তত্ত্বকে সমতলে এনেছেন। প্রথাগত অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে তিনি কুরআনকে সর্বোচ্চ মানদণ্ড ধরে শরিয়ত ও সুন্নাতের এক সংস্কারবাদী ও যুক্তিনির্ভর রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তার বৈপ্লবিক চিন্তাধারা আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে ইসলামকে একটি সুসংগত জীবনদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করে। ‘মিজান’ ও ‘আল-বায়ান’-এর মাধ্যমে তিনি জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

মুহাম্মদ ইকবাল
1877-1938ড. মুহাম্মদ ইকবাল (১৮৭৭–১৯৩৮): বিখ্যাত মুসলিম কবি ও দার্শনিক। তাকে আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ইসলামি চিন্তাধারার পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছিলেন এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের ধারণায় অনুপ্রেরণা জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ইমাম আমিন আহসান ইসলাহি
1904-1997ইমাম আমিন আহসান ইসলাহি (১৯০৪–১৯৯৭): প্রখ্যাত পাকিস্তানি আলেম। তিনি ইমাম ফারাহির অন্যতম বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন। তিনি কুরআনের ‘নাজম’ বা বিন্যাস তত্ত্বের আরও উন্নয়ন ঘটান এবং তিনি তার বিখ্যাত তাফসির ‘তাদাব্বুরে কুরআন’-এর জন্য সমধিক পরিচিত, যা আধুনিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক তাফসির গ্রন্থ।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
1888-1958মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (১৮৮৮–১৯৫৮): বিশিষ্ট ভারতীয় আলেম, চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কুরআন তাফসির ও ইসলামি চিন্তাধারায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান রেখে গেছেন।

সাইয়্যিদ আবুল আলা মওদুদি
1903-1979সাইয়্যিদ আবুল আলা মওদুদি (১৯০৩–১৯৭৯): বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, সাংবাদিক এবং জামায়াতে ইসলামির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। আধুনিক ইসলামি চিন্তাধারায় তার রচিত গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত প্রভাবশালী।

সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভি
1884-1953আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভি (১৮৮৪–১৯৫৩): প্রখ্যাত মুসলিম আলেম ও ইতিহাসবিদ। তিনি শিবলি নুমানির ছাত্র ছিলেন এবং বিখ্যাত ‘সিরাতুন্নবি’ গ্রন্থ রচনায় অংশগ্রহণের জন্য সুপরিচিত। অত্যন্ত মার্জিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইসলামি জ্ঞানচর্চাকে ছড়িয়ে দিতে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।

শিবলি নুমানি
1857-1914আল্লামা শিবলি নুমানি (১৮৫৭–১৯১৪): যুগশ্রেষ্ঠ ভারতীয় সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক রেনেসাঁ বা জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি ‘দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা’ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। ইসলামি ইতিহাস ও সিরাত শাস্ত্রে তার রচিত গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত মূল্যবান।

ওয়াহিদুদ্দিন খান
1925 - 2021মাওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান (১৯২৫–২০২১): বিশিষ্ট ভারতীয় ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি শান্তি ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আহ্বানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইসলামের সমকালীন উপস্থাপনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইমাম হামিদুদ্দিন ফারাহি
1863-1930ইমাম হামিদুদ্দিন ফারাহি (১৮৬৩–১৯৩০): কুরআন তাফসির ও উলুমুল কুরআনের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ভারতীয় আলেম। কুরআন গবেষণায় এক বৈপ্লবিক ধারার প্রবর্তক এই মনীষী। তিনি পবিত্র কুরআনের ‘নাজম’ তত্ত্বের জন্য সুপরিচিত, যেখানে তিনি আয়াত ও সুরার মধ্যকার বিষয়ভিত্তিক যোগসূত্র বা সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, কুরআনের প্রতিটি সুরা এবং আয়াত বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে সুসংগতভাবে বিন্যস্ত। কুরআনকে একটি সুশৃঙ্খল ‘লিটারেরি মাস্টারপিস’ হিসেবে উপস্থাপনে ফারাহির অবদান অনন্য।
