জাভেদ আহমেদ গামিদি: আমাদের সময়ের গ্যালিলিও

ইজাজ-উল-হক·১/১/২০২৪

তিনি গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তিনি ধর্মবিশ্বাসকে রূপকথা নয়, বরং জীবন্ত বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তিনি অনুভূতির উন্মাদ স্রোতে হারিয়ে যাওয়া আমাদের বোধকে উদ্ধার করেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তিনি বলেন, তিনি নিজে গুরুত্বপূর্ণ নন; সত্যই গুরুত্বপূর্ণ।

জাভেদ আহমেদ গামিদি আমাদের যুগের গ্যালিলিও। দুজনেই যেন অপরাধী। দুজনেই সেই “অপরাধ” করেন — দেখতে চান চোখ মেলে এমন এক সময়ে, যখন অন্ধত্বকে বিশেষ গুণ হিসেবে মানা হয় এবং অন্ধরাই সমাজে গণ্যমান্য হয়। দুজনেই নিজেদের দেশবাসীর হাতে নিপীড়িত হয়েছেন। দুজনেই তাদের চ্যালেঞ্জ করেন, যারা ধর্মকে আমলাতন্ত্রে পরিণত করে এবং বিশ্বাসকে নিজেদের জমিদারি বানায়। দুজনেই পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেন এমন কথা বলে, যা পৃথিবী শুনতে প্রস্তুত নয়।

পাকিস্তানের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী জাভেদ আহমেদ গামিদির সাথে ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির তুলনা করলে আমার কাছে বিতর্কটা সহজ হয়ে যায়। আমি মোটেও জনপ্রিয় অর্থে কোনো “গামিদি-ভক্ত” ব্যক্তি নই। কোনো চিন্তক থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া মানেই তার পক্ষে সাফাই গাওয়া বা স্পনসরশিপ ঘোষণা করা নয়। গ্যালিলিও পড়লেই কেউ “গ্যালিলিওবাদী” হয় না, তবুও সেই সম্ভাব্য ট্যাগের ভয়ে নিজের মত লুকিয়ে রাখাও ঠিক নয়।

চিন্তকরা রাজনীতিবিদ বা নেতাদের মতো অনুসারী তৈরি করেন না। তারা ব্রেনওয়াশ করেন না, বরং শেখান। প্রশ্ন করলে তারা আপনাকে ধমকায় না, বরং চায় আপনি আরও প্রশ্ন করুন। জ্ঞানচর্চার দুনিয়ায় নায়কপূজা নেই, অনুসরণের দেবতা নেই; আছে শিক্ষক, যাদের থেকে শেখা যায়। তাই “গামিদিয়ান” বলে কিছু নেই, কারণ এই মানুষটি আপনাকে নিজের মতো করে ভাবতে শেখায়।

গামিদি আমাদের প্রশ্নগুলোর জন্য কোনো ‘এক ছাঁচে’ ঢালাও উত্তর নন। তিনি শুধু আলো ফেলেন, আর আমি নিজে দেখে নিই। এই আলো যদি (সমালোচক হিসেবে) আমাকে তাকে ভেঙে ফেলতে উসকে দেয়, আমি ভেঙে ফেলব। আবার এই আলো যদি (ভক্ত হিসেবে) আমাকে তাকে ভালোবাসতে শেখায়, আমি ভালোবাসব।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু কোনো ব্যক্তি নন। ব্যক্তিরা এখানে রেফারেন্স; যেমন গ্যালিলিও রেফারেন্স ছিলেন সেই সত্যের, যা তিনি বলেছিলেন। অ্যারিস্টটল বলেছিলেন: “প্লেটো আমার প্রিয়, কিন্তু আরও প্রিয় হলো সত্য।” সুতরাং গামিদি যদি প্রিয় হন, তবুও তার চেয়েও প্রিয় হবে সত্য।

গামিদিকে ভুলে যান, বিষয়টি দেখুন। এখানে কথা হচ্ছে জ্ঞানের দিকে যাওয়ার দুটো পথ নিয়ে। এক পথ ভাবনার সব দরজা বন্ধ করে দেয়, আর অন্য পথ দরজা খুলে দেয়। এক পথ ক্ষুব্ধ করে, অন্য পথ আলোকিত করে। এক পথ আপনাকে একটি “উপসংহার” ধরিয়ে দেয়, আর অন্য পথ আপনাকে দেয় একটি “অন্তর্দৃষ্টি”। ধরুন গামিদি নেই (যদি তাতে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়), তবুও বিতর্কটা থেকে যাবে। ধরুন গ্যালিলিও নেই, তবুও “কে কাকে ঘিরে ঘোরে” এই প্রশ্ন পৃথিবীকে অস্থির করেই রাখত। গ্যালিলিওকে উড়িয়ে দিলে সত্য বদলাত না এবং গ্যালিলিও-সুলভ মহত্ত্বও কমত না। ব্যক্তি সাধারণ; গুণই মানুষকে অসাধারণ করে। আর ঠিক এখানেই গামিদি দৃশ্যে এসে দাঁড়ান।

... কারণ চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ

যে পৃথিবীতে আল্লাহকে নিছক কল্পনা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, ইমানকে রূপকথা বলা হয় এবং ওহিকে কল্পনাপ্রসূত আকাঙ্ক্ষার নির্মাণ হিসেবে গণ্য করা হয় — সেই পৃথিবীতে তিনি ধর্মকে জীবন্ত বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। (না, আমি বলতে চাই না যে, আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য গামিদির প্রয়োজন আছে; আমি শুধু বলতে চাই, বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ইমান আজ যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেই চ্যালেঞ্জের কথা)। আমরা এখনো মধ্যযুগীয় এক মানসিকতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারিনি, যেখানে ধর্মকে কখনো ‘মুলা’ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়, আবার কখনো ‘লাঠি’ দিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ আজকের পৃথিবী ধারণা ও চিন্তার দ্বারা চালিত।

নিটশে-রাসেল ধারার পুরনো নাস্তিক চিন্তাধারা ছাড়াও আধুনিক বহু ধর্মবিরোধী লেখক — ব্ল্যাকবার্ন, হারারি, পিঙ্কার, হিচেন্স, হ্যারিস, ডকিন্স, ডেনেট, গ্রেলিং — এবং আরও অনেক চিন্তক পৃথিবীজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের চিন্তাকে প্রভাবিত করছে। তারা কেবল ক্ষোভ উসকে দেয় না, তাদের কথা সস্তা বকবক নয়, যা রাগ আর অজ্ঞতায় এক ঝটকায় উড়িয়ে দেওয়া যায়। তারা ধর্মের সামনে বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। কিন্তু আমরা বালিতে মাথা গুঁজে থাকতে ভালবাসি। আমরা তাদের চিনি না, কারণ ইতিহাসে যখন আমরা নৌকা পুড়িয়েছিলাম, তখন তার সাথে বইও পুড়িয়েছিলাম। অথবা যদি চিনি, আমাদের প্রতিক্রিয়া হয় উন্মত্ত, নয়তো ক্ষমাপ্রার্থী।

এই সময়ে আপনি যখন খুঁজবেন — মুসলিম বিশ্বে এমন কে আছেন, যিনি এই ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারেন, যিনি এই স্তরের চিন্তাকে মোকাবিলা করার পাশাপাশি ছাড়িয়ে যেতে পারেন — খুব কম নামই সামনে আসে। আর যাদের নাম আসে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জাভেদ আহমেদ গামিদি। আমরা মৌলিক চিন্তকের দুর্ভিক্ষে ভুগছি, আর তিনি আমাদের আশা। অধ্যায় ও আয়াত নম্বরের পিংপং খেলা, মঞ্চের প্রদর্শনী অথবা আবেগঘন অশ্রুসঞ্চারী বক্তৃতা, যা হৃদয় নাড়ায় কিন্তু মস্তিষ্ককে অবশ করে — এসব থেকে দূরে জ্ঞানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শালীন ও গভীর। তিনি ধর্মকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে উত্তর-আধুনিক মন — যে মন অন্যথায় ‘বিশ্বাস’ নামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে নাস্তিকতাকেই একমাত্র প্রতিষেধক মনে করে — তার কাছেও ধর্ম প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

গামিদি ধর্মকে এমন এক জীবনের জন্য প্রাসঙ্গিক করে তোলেন. যেখানে আমরা শুধু ইবাদত করি না; বরং লড়াই করি, ভালোবাসি, ঘৃণা করি, হোঁচট খাই, পড়ে যাই এবং উঠে দাঁড়াই। এমন এক সময়ে যখন মুসলমানদের কখনো সন্ত্রাসী বা কখনো ভাঁড় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, ঠিক তখনই গামিদির মতো ব্যক্তি বিশ্বাসকে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেন। তিনি সেই কাজটাই করেন, যা ইকবাল কল্পনা করেছিলেন। ইকবাল একটি চিন্তা দিয়েছিলেন, আর গামিদি সেটাকে কর্মে বুনে দিয়েছেন। তাই কর্ম যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে গামিদিও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

... কারণ কৌতূহল গুরুত্বপূর্ণ

আমরা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষুধা হারিয়ে ফেলেছি — এটা এক বড় আক্ষেপ। যা আমরা জানি তাতেই আমরা সন্তুষ্ট; আর যা জানি না তা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করি। জ্ঞানকে আমরা নিজের থেকে দূরে রাখি, যেন তা অভিশাপ। আর এখানেই গামিদি আমাদের উসকে দেন “নিষিদ্ধ বস্তুর স্বাদ” নিতে। শেখার গবেষণাগারে ঢোকার সময় তিনি পুরনো ভিত্তিটাকে ভেঙে দেন না, বরং সেটাকে সমুন্নত রাখেন। তিনি সংস্কার করেন, পুনরায় পর্যালোচনা করেন এবং পুনর্গঠন করেন — গভীর মনোযোগ ও কৌতূহল নিয়ে।

তিনি আমাদের বোঝান ধর্ম আর ‘ধর্ম-বোঝাপড়ার’ সূক্ষ্ম পার্থক্য এবং ঠিক এই জায়গাতেই আমরা তাকে ধরতে ব্যর্থ হই। আমরা ধর্মকে গুলিয়ে ফেলি ‘ধর্মীয় চিন্তার’ সঙ্গে। একটির উৎস ঐশী, যেখানে অন্যটি মানবীয়। আমরা ইমানকে সংস্কৃতি, সমাজ ও প্রথার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলি, আর তাতেই সত্য আমাদের চোখের আড়ালে চলে যায়।

গামিদি ঐশী আদেশ, আইনি বিধান, সামাজিক রীতি এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলন — সবকিছুকে তাদের মূল পটভূমিতে রেখে স্পষ্ট করেন। তিনি অনুসন্ধান করেন ঐচ্ছিক ও আবশ্যিকের মাঝের পরিসর; প্রশংসনীয়, অনুমোদিত, ক্ষমাযোগ্য এবং দণ্ডনীয় — এসবের পার্থক্য। কৌতূহলী মন এভাবেই কাজ করে: তাকওয়ার সর্বোচ্চ মানদণ্ডকে সাধারণ জীবনের দাবি থেকে আলাদা করে দেখা। অথচ আমরা আচ্ছন্ন হয়ে আছি জান্নাত-জাহান্নাম, ইসলামি-অইসলামি, আল্লাহ-শয়তান — এই দ্বৈত কাঠামোয়। উত্তেজনায় আমরা পার্থক্য করার কৌতূহল হারিয়ে ফেলি; আর তিনি সেই কৌতূহলকে পুনরায় জাগিয়ে তোলেন।

জাভেদ আহমেদ গামিদি ইসলামকে সার্বজনীন করেন কোনো সংশোধন বা পরিবর্তন ঘটিয়ে নয়; বরং ইসলাম নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করে ঠিক সেভাবেই এবং সেটার আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটসহ উপস্থাপন করেন। তার কাছে প্রস্তাব করার মতো কোনো ব্যক্তিগত “দীন-ই-ইলাহি” নেই। তিনি প্রতিটি কথার সমর্থনে দাঁড় করান সেই শব্দকে, যাকে আমরা সবাই পবিত্র বলে মানি। তার ইমান তাদের চেয়ে অনেক দৃঢ়, যারা ইমানকে ধার্মিকতার ব্যাজ হিসেবে প্রদর্শন করেন। তাহলে বিরোধটা কোথায়? হয় আমরা জানি না, নয়তো জানি কিন্তু বুঝি না, অথবা বুঝি কিন্তু মানি না, কিংবা মানি কিন্তু সত্য স্বীকার করার সততা দেখাই না। শুধু আমরা দেখি না বলেই যে সত্যের অস্তিত্ব নেই — এমনটা কখনো হতে পারে না।

আমাদের ধর্মীয় বক্তাদের কাছে ধর্মের ধারণা অনেক সময় অন্ধকার ও ভীতিকর। তারা ইমানে ঢোকার কোনো জায়গা রাখেন না; যেখানে গামিদি ইমান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা রাখেন না। তারা খোদাতায়ালার যে ধারণা আমাদের দেন, তাতে জীবন পরিচালনা অসম্ভব; অন্যদিকে গামিদির খোদাতায়ালার ধারণায় জীবন শুধু সম্ভবই নয়, সুন্দরও বটে। অজ্ঞতা ও ভয়ের জমাট বরফ-সমুদ্র চিরে যে আশার পথ তৈরি হয় — গামিদি যেন সেই পথ খুলে দেওয়া “আশার কুঠার”। তাই তিনি গুরুত্বপূর্ণ।

... কারণ অনুগ্রহ ও যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ

ধর্মীয় বিষয়ে আমরা অনেক সময় আগ্নেয়গিরির মতো আচরণ করি। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত ও ভদ্র লোকটিও অনেক সময় রুক্ষ ও অনুগ্রহহীন হয়ে ওঠে, তাও আল্লাহর নামে। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কথাবার্তাও রাস্তার তর্কের মতো, যেখানে যে যত জোরে চেঁচাবে, সে তত মর্যাদাবান হবে। এমন এক সংস্কৃতিতে, যেখানে অসহিষ্ণুতার মাত্রাই ইমানের মাত্রা নির্ধারণ করে, সেখানে একজন মানুষ আছেন, যিনি তার বিরোধীদেরও সম্মান করেন এবং পূর্ণ শালীনতায় তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি মওলানা মওদুদি, সাইয়্যেদ কুতুবসহ অনেক ধর্মীয় চিন্তাবিদের দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে দ্বিমত পোষণ করেন, কিন্তু তাদের প্রতি গভীর সম্মানও প্রদর্শন করেন। তিনি দেখান কীভাবে অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস ও শালীনতার সঙ্গে দ্বিমত করতে হয়।

গামিদি তার অস্বীকৃতিকে “আমি মানি না” — এই চেনা ভঙ্গিতে প্রকাশ করেন না। তিনি ব্যাখ্যা করেন — কেন গ্রহণ করবেন বা কেন করবেন না। দাড়ি, পর্দা, সঙ্গীত, সুদ, নারীর অধিকার, রাষ্ট্রনীতি, উত্তরাধিকার — এসব বিষয়কে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মগ্রন্থের আলোকে অধ্যয়ন করতে হয়। এগুলো গুরুতর বিতর্ক। তিনি বিষয়গুলোকে যথাস্থানে স্থাপন করেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি ইমানের বৃত্তের বাইরে গিয়ে নিজের আলাদা সীমারেখা আঁকেন না। তিনি ভেতর থেকেই দৃশ্য দেখান।

আমাদের সমস্যা হলো, আমরা শুরু করার আগেই শেষ করে দিই। সমুদ্র থেকে এক-দুই বালতি জল তুলে সিদ্ধান্ত দিই — সমুদ্রে তিমি নেই। যদি আমরা গামিদির যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত করি (এবং আমাদের সেই অধিকার আছে), তবে প্রথম কাজ হলো যুক্তির ভিত্তিতে নিবিষ্ট হওয়া। গামিদির যুক্তি গভীর মনোযোগ দাবি করে — আর তাই তিনি গুরুত্বপূর্ণ।

... কারণ বোধ ও স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ

বোধ বুদ্ধির আগে। বুদ্ধিজীবী হওয়ার আগে আমাদের সুস্থ ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বোধের জবাবে আরও ভালো বোধ উপস্থিত করুন; হতে পারে আপনি ঠিক, তিনি ভুল। কিন্তু শোরগোল কখনো সত্যকে নীরব করতে পারে না। তিনি ফতোয়া চাপিয়ে দেন না; তিনি শুধু নিজের বোঝাপড়া সামনে রাখেন, যাতে অন্যরা নিজেদের মতো করে ভেবে নিতে পারে।

গামিদির ইতিহাস বা ধারণার বর্ণনাগুলো স্বকপোলকল্পিত নয়, বরং সেগুলো যুক্তিগ্রাহ্য ও বিবেকপ্রসূত — আর ঠিক এই কারণেই তিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা, সাহিত্য বা যোগাযোগবিদ্যার যেকোনো ছাত্র তার মতো একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিখতে পারবে। তার যুক্তির প্রাঞ্জলতা শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে আকর্ষণ করে। কোনো প্রকার বাগাড়ম্বর বা বাকচাতুরী ছাড়াই তার বক্তব্যের এই যে স্ফটিকস্বচ্ছ রূপ, তা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

... কারণ সততা গুরুত্বপূর্ণ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার চারিত্রিক সততা। তিনি নিজে যা প্রচার করেন, সেই নীতিগুলো নিজের জীবনেও পালন করেন। আবেগ প্রকাশের জন্য কোনো কৃচ্ছ্রসাধনের প্রয়োজন হয় না, তাই আমরা আবেগপ্রবণ হওয়াকেই নিরাপদ মনে করি। কিন্তু এই অন্তঃসারশূন্য আবেগ প্রদর্শনে কোনো ত্যাগ নেই। আসল গুরুত্ব তো সেখানে, যখন আপনি আপনার বিশ্বাসের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন। আমাদের ভালোবাসা অনেক সময় মুখে বা ঠোঁটেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু তিনি সেই ভালোবাসার প্রকৃত মূল্য চুকান।

শেষ কথা

তার মধ্যে এই সকল গুণাবলি এমন সুন্দরভাবে মিশে আছে যে কোনটি বড় আর কোনটি ছোট তা আলাদা করা কঠিন। আর এই সামগ্রিকতাই তাকে অনন্য করে তুলেছে।

GCIL Bangla

Visit us

3624 Market St, Suite 5E

Philadelphia, PA 19104

Contact us via email

info@almawridus.org

Follow us

Copyright 2025, Ghamidi Center of Islamic Learning. All Rights Reserved. GCIL is an initiative of Al-Mawrid U.S. A 501(c)(3) tax-exempt organization in the U.S. Federal EIN: 46-5099190.