ইচ্ছাশক্তি ও স্বাধীনতার নিয়ামত যেখানে এই দুনিয়াতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় শ্রেষ্ঠত্ব, সেখানে এর একটি অনিবার্য পরিণতি এটাও যে, ইচ্ছা ও স্বাধীনতার অপব্যবহারের কারণে বারবার জমিনে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। মানব ইতিহাসে এই ফাসাদের প্রথম প্রকাশ মানবজাতির পিতা আদমের পুত্র কাবিলের হাতে হয়েছিল; সুতরাং এর সাথে সাথেই এই প্রয়োজন সামনে চলে এসেছিল যে, মানুষকে স্বয়ং মানুষের এই অনিষ্ট ও ফাসাদ থেকে বাঁচানোর কোনো ব্যবস্থা থাকা উচিত। আল্লাহতায়ালা মানুষের ফিতরাতে যে হাকিকত গেঁথে দিয়েছেন, সেটার আলোকে এই বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট ছিল যে, এর একমাত্র পথ হলো — অপরাধের আগে পরিবেশের পরিবেশের সংশোধন, শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণ, দাওয়াত ও নসিহত এবং অপরাধের পর যথাযথ শাস্তি ও সতর্কতা প্রদান। কিন্তু এই শাস্তি ও সতর্কতা কোন অপরাধে কতটুকু এবং কোন পদ্ধতিতে হওয়া উচিত? এটা নির্ধারণের কোনো ভিত্তি যেহেতু মানবীয় বুদ্ধি-বিবেকের নিকট ছিল না, তাই আল্লাহতায়ালা তাঁর নবীদের মাধ্যমে মানুষকে যে শরিয়ত দিয়েছেন, তাতে জীবনের অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে জান, মাল, ইজ্জত এবং সামাজিক শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সকল বড় অপরাধের শাস্তি তিনি নিজেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
এই অপরাধসমূহ নিম্নরূপ:
১. মুহারাবা (বিদ্রোহ) এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা।
২. হত্যা ও জখম।
৩. জিনা-ব্যভিচার।
৪. কাজফ (অপবাদ)।
৫. চুরি।
শরিয়তে যেসব অপরাধের শাস্তি নির্ধারিত, সেগুলো মূলত এগুলোই। এগুলোর লঘু বা নিম্নতর রূপ এবং এগুলো বাদে অন্যসব অপরাধের বিষয় আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের আরবাব-এ-হাল ও আকদ (রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল বা শাসনকর্তা)-দের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে তারা এই বিষয়ে যে আইন চাইবে, তৈরি করতে পারবে। তবে এতটুকু কথা এক্ষেত্রেও নির্ধারিত যে, কুরআনের দৃষ্টিতে হত্যা এবং ফাসাদ ফিল আরদ (জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি) ছাড়া অন্য কোনো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যযেতে পারে না। একইভাবে এই বিষয়টিও নির্ধারিত যে, এই অপরাধসমূহের শাস্তির হুকুম মুসলমানদেরকে তাদের ব্যক্তিগত মর্যাদায় নয়, বরং পুরো মুসলমান সমাজকে দেওয়া হয়েছে এবং এই দিক থেকে এটা তাদের সামাজিক শৃঙ্খলার সাথে সংশ্লিষ্ট।
আমরা এখানে এই শাস্তিগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করব:
মুহারাবা (বিদ্রোহ) এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়াতে বিদ্যমান এবং লোকেরা তার শাসনে তার কোনো হুকুম বা ফয়সালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তবে তা আল্লাহ ও রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মুহারাবা (বিদ্রোহ)। ‘ফাসাদ ফিল আরদ’-এর ব্যাখ্যাও অনুরূপ। এটা সেই পরিস্থিতিতে সৃষ্টি হয়, যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের বিরোধিতা করে মানুষের জান-মাল, ইজ্জত এবং বুদ্ধি-বিবেক ও মতামতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অতএব, হত্যা যখন সন্ত্রাসবাদ, জিনা-ব্যভিচার যখন ধর্ষণ এবং চুরি যখন ডাকাতিতে পরিণত হয়; অথবা লোকজন যখন জিনা-ব্যভিচারকে পেশা বানায়; অথবা প্রকাশ্যে উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে; অথবা নিজেদের বেপরোয়া স্বভাব, দুষ্কৃতিকারিতা ও যৌন অনাচারের কারণে ভদ্রলোকদের সম্মান ও সম্ভ্রমের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়; অথবা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে লিপ্ত হয়; অথবা অপহরণ, নাশকতা, ত্রাস সৃষ্টি এবং এ ধরনের অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে, তবে তারা ‘ফাসাদ ফিল আরদ’-এর অপরাধী হবে। তাদের দমনের জন্য এই চারটি সাজা নির্ধারিত করা হয়েছে:
১. দৃষ্টান্তমূলক পদ্ধতিতে হত্যা করা।
২. দৃষ্টান্তমূলক পদ্ধতিতে শূলে চড়ানো।
৩. হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া।
৪. এলাকা থেকে বহিষ্কার করা বা দেশান্তর করা।
এই শাস্তি সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় শর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে:
প্রথমত, কুরআন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে এই অধিকার দিয়েছে যে, অপরাধের প্রকৃতি, অপরাধীর অবস্থা এবং অপরাধের বর্তমান ও সম্ভাব্য প্রভাবের আলোকে এগুলোর মধ্য থেকে যে শাস্তি উপযুক্ত মনে করবে, সেটা তারা এমন অপরাধীদেরকে দিতে পারবে। দৃষ্টান্তমূলক পদ্ধতিতে হত্যা এবং শূলে চড়ানোর মতো শাস্তির সাথে এখানে দেশান্তরের সাজা এজন্য রাখা হয়েছে, যেন শাস্তির চরম কঠোরতার সাথে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী অপরাধীর সাথে নমনীয়তার সুযোগও বাকি থাকে।
দ্বিতীয়ত, অপরাধ যদি দলবদ্ধভাবে সংঘটিত হয়, তবে তার শাস্তি ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সেই দলকে দল হিসেবেই দেওয়া হবে। অতএব, অপরাধীদের কোনো দল যদি ফাসাদ ফিল আরদ-এর পদ্ধতিতে হত্যা, অপহরণ, জিনা-ব্যভিচার, নাশকতা, ত্রাস সৃষ্টি এবং এ ধরনের অন্যান্য অপরাধে লিপ্ত হয়, তবে এটা তদন্তের প্রয়োজন নেই যে, সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধটি কার হাতে সংঘটিত হয়েছে এবং কার হাত দিয়ে হয়নি; বরং দলের প্রতিটি সদস্য এই দায়ে অংশীদার বলে গণ্য হবে এবং তার সাথে আচরণও অবশ্যই এরই আলোকে হবে।
তৃতীয়ত, এ ধরনের অপরাধীদের সাজা দেওয়ার সময় কারও মনে সহানুভূতির কোনো আবেগ সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। যিনি তাদের স্রষ্টা — সেই প্রতিপালক এই অপরাধগুলো [উল্লেখ করার] পর তাঁর ফয়সালা এটাই যে, তাদেরকে এই দুনিয়াতেই একেবারে লাঞ্ছিত করা হোক। এই শাস্তিসমূহের উদ্দেশ্য এটাই এবং তা সর্বাবস্থায় সামনে রাখতে হবে।
চতুর্থত, এ ধরনের অপরাধীরা যদি রাষ্ট্রীয় কোনো পদক্ষেপের আগে নিজেরাই এগিয়ে এসে নিজেদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়, তবে তাদের সাথে সাধারণ অপরাধীদের মতোই আচরণ করা হবে। এই অবস্থায় তাদের ‘মুহারাবা’ বা ‘ফাসাদ ফিল আরদ’-এর অপরাধী সাব্যস্ত করা হবে না।
হত্যা ও জখম
হত্যা ও জখমের কিসাস তথা বদলা নেওয়া ফরজ, যা মুসলমানদের সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে অর্পণ করা হয়েছে। সমাজের জন্য এতেই জীবন রয়েছে এবং মুসলমানদের জন্য এটা আল্লাহতায়ালার নাজিলকৃত আইন, যা থেকে বিচ্যুতি কেবল জালিমরা-ই করে, অতএব রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে: তার এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি খুন হয়, তবে তার খুনিদের খুঁজে বের করা, তাদের গ্রেপ্তার করা এবং আইন অনুযায়ী তাদের থেকে কিসাস গ্রহণ করা।
কিসাসের ব্যাপারে পূর্ণ সমতা বজায় রাখতে হবে, অতএব যদি কোনো গোলাম (ক্রীতদাস) খুনি হয়, তবে তার বদলে সেই গোলাম এবং কোনো স্বাধীন ব্যক্তি খুনি হলে, তার বদলে সেই স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে। কোনো ব্যক্তির সামাজিক ও গোষ্ঠীগত মর্যাদা এ বিষয়ে কোনোভাবেই অগ্রাধিকার পাওয়ার কারণ হওয়া উচিত নয়।
স্বয়ং আহত ব্যক্তি বা নিহত ব্যক্তির অভিভাবকরা যদি প্রাণের বদলে প্রাণ, অঙ্গের বদলে অঙ্গ এবং জখমের বদলে জখমের দাবি না করে এবং অপরাধীর সাথে নমনীয়তা প্রদর্শনে প্রস্তুত হয়, তবে আদালত অপরাধের ধরন এবং অপরাধীর অবস্থা বিবেচনা করে তাকে লঘু শাস্তিও দিতে পারে। এটা খোদাতায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য একটি ছাড় এবং তাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ। অতএব, এই অপরাধের ক্ষতিগ্রস্তরা যদি এটা গ্রহণ করে, তবে আল্লাহতায়ালার দরবারে তাদের এই ক্ষমা তাদের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।
[এ অবস্থায়] আহত বা নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদেরকে অপরাধীর পক্ষ থেকে দিয়াত (রক্তপণ) দেওয়া হবে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন যে, তা সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে আদায় করা উচিত।
হত্যা যদি ভুলবশত হয় এবং নিহত ব্যক্তি ইসলামি রাষ্ট্রের কোনো মুসলমান নাগরিক হয়, অথবা ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিক না হলেও কোনো চুক্তিবদ্ধ জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে খুনির জন্য আবশ্যক হচ্ছে, যদি তাকে ক্ষমা না করা হয়, তবে সমাজের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সে দিয়াত (রক্তপণ) আদায় করবে এবং এই অপরাধের কাফফারা হিসেবে ও নিজের প্রতিপালকের দরবারে তওবার জন্য তার সাথে একজন মুসলমান গোলামও মুক্ত করবে। কিন্তু নিহত ব্যক্তি যদি শত্রু জাতির কোনো মুসলমান হয়, তবে খুনির ওপর দিয়াত বা রক্তপণের কোনো দায় নেই। এই অবস্থায় এটাই যথেষ্ট যে, নিজের এই গুনাহ ধুয়ে মুছে ফেলার জন্য সে একজন মুসলমান গোলাম মুক্ত করবে। এই উভয় অবস্থায় যদি গোলাম সহজলভ্য না হয়, তবে তার বদলে তাকে টানা দুই মাস রোজা রাখতে হবে।
জিনা-ব্যভিচার
জিনাকারী পুরুষ হোক বা নারী — তার অপরাধ যদি প্রমাণিত হয়, তবে এর শাস্তি হিসেবে তাকে একশ বেত্রাঘাত করা হবে।
অপরাধীকে এই শাস্তি মুসলমানদের একটি জামাতের উপস্থিতিতে দেওয়া হবে, যাতে এটা তার জন্য লাঞ্ছনা এবং অন্যদের জন্য উপদেশের কারণ হয়। কুরআনের নির্দেশ হচ্ছে, ইমানদারদের কোনো সরকার বা আদালতের জন্য এই বিষয়ে কোনো প্রকার নমনীয়তা প্রদর্শন করা উচিত হবে না।
এই শাস্তির পর কোনো সচ্চরিত্র পুরুষ বা নারীর এই জিনাকারী বা জিনাকারিনীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহতায়ালা এটাকে হারাম করেছেন।
এটা এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং কেবল সেই অপরাধীদেরই দেওয়া হবে, যাদের মাধ্যমে অপরাধটি চূড়ান্ত পর্যায়ে সংঘটিত হবে এবং তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা কোনো ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়। অতএব, শাস্তি সহ্য করতে অক্ষম, নিরুপায় এবং অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, পরিস্থিতি ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত সকল লোক নিশ্চিতভাবে এর থেকে ব্যতিক্রম।
কাজফ (অপবাদ)
এর দুটি রূপ রয়েছে:
এক — কোনো ব্যক্তি কোনো শরিফ (সম্মানিত) এবং সচ্চরিত্র নারী বা পুরুষের ব্যাপারে জিনার অপবাদ দেওয়া।
দুই — এ ধরনের বিষয় কোনো স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সংঘটিত হওয়া।
প্রথম অবস্থায়, ঐ ব্যক্তিকে সর্বাস্থায় চারজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী পেশ করতে হবে। সে এতে অক্ষম হলে, তাকে কাজফ-এর অপরাধী সাব্যস্ত করা হবে। কাজফের শাস্তি হচ্ছে: তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে এবং তার সাক্ষ্য পরবর্তীতে আর কোনো বিষয়েই গ্রহণ করা হবে না। কুরআনের নির্দেশ হলো, এই অপরাধের লিপ্ত ব্যক্তিরা আল্লাহতায়ালার দরবারে ফাসিক (পাপী) হিসেবে গণ্য হবে — তবে যদি তারা নিজেদের অপরাধের ব্যাপারে তওবা করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের সংশোধন করে [তাদের কথা ভিন্ন]।
দ্বিতীয় অবস্থায়, সাক্ষ্য না থাকলে এ বিষয়ের ফয়সালা কসমের ভিত্তিতে হবে। এর পদ্ধতি এমন হবে: স্বামী চারবার আল্লাহর কসম খেয়ে বলবে যে, সে যে অভিযোগ করছে তাতে সে সত্যবাদী এবং পঞ্চমবার বলবে যে, সে যদি এই অভিযোগে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার ওপর খোদার লানত বর্ষিত হোক। এর জবাবে স্ত্রী যদি এ ধরনের কোনো কসম দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থন না করে, তবে তার ওপর জিনার সেই শাস্তি কার্যকর হবে, যা শরিয়তে তার জন্য নির্ধারিত। কিন্তু সে যদি এই অভিযোগ স্বীকার না করে, তবে কেবল তখনই শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবে, যখন সে চারবার আল্লাহর কসম খেয়ে বলবে যে, এ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবার বলবে: যদি এ ব্যক্তি সত্য বলে, তবে আমার ওপর খোদাতায়ালার গজব নাজিল হোক।
স্ত্রী স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ করলে, তখনও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
চুরি
এর শাস্তি হাত কাটা। চোর পুরুষ হোক বা নারী — তার অপরাধ যদি প্রমাণিত হয়, তবে এর শাস্তি হিসেবে তার ডান হাত কবজি থেকে কাটা হবে। জিনার মতো এটাও এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং [এই শাস্তি] কেবল তখনই দেওয়া হবে, যখন অপরাধী তার অপরাধের প্রকৃতি এবং নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ছাড় পাওয়ার যোগ্য না থাকে।
