ধর্মে কসমের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা ইসলামের মৌলিক নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত। কসম এই প্রতিশ্রুতিকে একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে সুদৃঢ় করে। মুসলমান যখন নিজের কোনো সংকল্প, ইচ্ছা বা প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আল্লাহর কসম করে, তখন সে যেন নিজের প্রতিপালক এবং জগতের বাদশাহকে নিজের কথার ব্যাপারে সাক্ষী রাখে। কসমের এই গুরুত্ব সত্ত্বেও বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, মানুষের জন্য নিজের কসম পূর্ণ করা সম্ভব হয় না, অথবা সে অনুভব করে যে, এর ফলে আল্লাহর বা তার নিজের অথবা অন্যদের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। এই অবস্থায় কসম ভাঙা যেতে পারে, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কসম ভেঙে দেওয়া ধর্ম ও নৈতিকতার দিক থেকে জরুরি হয়ে পড়ে। শরিয়তে এর জন্য কাফফারার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিধান নিচে দেওয়া হলো:
১ — কসম কখনও কখনও একেবারে নিরর্থক, অকার্যকর এবং অবান্তর হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুমিন বান্দার উচিত এমনটি থেকেও বেঁচে থাকা। কিন্তু নিজের বান্দাদের প্রতি আল্লাহতায়ালার এটা অশেষ নিয়ামত যে, তিনি এ ধরনের কসমের ব্যাপারে [তাদেরকে] দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো জবাবদিহিতার মুখোমুখি করবেন না।
২ — এর বিপরীতে, যদি কসম দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে এবং মনের ইচ্ছা থেকে করা হয়, তার মাধ্যমে কোনো অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি করা হয়, তার দ্বারা অধিকার ও কর্তব্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে, অথবা তা খোদার কোনো হালাল বা হারামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তবে তার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই [বান্দাকে] জবাবদিহির মুখোমুখি করবেন। সুতরাং কসমের বিষয়ে মানুষের কখনোই উদাসীন ও শিথিল হওয়া উচিত নয়, বরং পূর্ণ দায়িত্বের সাথে তার হেফাজত করা উচিত।
৩ — এ ধরনের কসম যদি কোনো কারণে ভাঙতে হয়, তবে জরুরি যে তার কাফফারা আদায় করা হবে। কাফফারার পদ্ধতি হচ্ছে: কসমকারী দশজন মিসকিনকে সেই মানের খাবার খাওয়াবে, যা সে সাধারণত নিজের পরিবার-পরিজনকে খাওয়ায় অথবা তাদের পরিধানের কাপড় দেবে অথবা একজন দাস আজাদ করবে। এগুলোর মধ্যে কোনো কিছুই সহজলভ্য না হলে, তাকে তিনদিন রোজা রাখতে হবে।
